করোনা যুদ্ধ ও একজন মানবিক পুলিশ সুপারের গল্প

অথর
মাহাতাব উদ্দিন লালন  কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২৭ এপ্রিল ২০২০, ৩:১০ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 412 বার
করোনা যুদ্ধ ও একজন মানবিক পুলিশ সুপারের গল্প কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত

করোনাভাইরাসের কারনে গোটা বিশ্ব আজ স্থবির। প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। বন্ধ হয়ে গেছে শিল্প কলকারখানাসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছে খেটে খাওয়া কর্মমূখী মানুষ। সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষ এখন তিনবেলার আহার যোগানো নিয়ে চ্যালেন্সে পড়েছে।
এই সময়ে ক্ষুধার্ত মানুষকে ঘরে রাখাটাও এক ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সব থেকে বড় ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে করোনা যুদ্ধে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তা সত্যিই অকল্পনীয় ।
এরই ফল শ্রুতিতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। এছাড়াও অসচ্ছল, কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে।
শুধু খাবার নয়, মানুষ যাতে ঘরে থাকে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে সেই লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এর নির্দেশে জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্য নিজেদের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও নিজের পরিবারের সদস্যদের চিন্তা না করে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টার কাজ করে যাচ্ছে। খাবার পৌঁছে দিচ্ছে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি। শুধু তাই নয় প্রতিদিন কয়েকশো মানুষকে রান্না খাবার বিতরণ করছে জেলা পুলিশের সদস্যরা। মানুষের এই বিপদকালীন সময়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশ মানবতার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

          তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন এস এম তানভীর আরাফাত

শুধু সাধারণ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া নয়, এই জেলার প্রত্যেকটি মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে সুস্থ থাকে সেই লক্ষ্যে সমগ্র জেলাব্যাপী পুলিশের তৎপরতা সত্যিই চোখে পড়ার মত।
বার বার অনুরোধের পরেও জেলার বাইরে থেকে অসংখ্য মানুষ এই জেলায় প্রবেশ করছে, বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব মানুষ কুষ্টিয়ায় আসছেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। শুধু হোম কোয়ারান্টাইন নয়, তারা যাতে নির্বিঘ্নে বাসায় থাকতে পারে, যাদের খাবারের সংকট রয়েছে তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ।
এরমধ্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। সেটি হচ্ছে জেলায় কর্মরত ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্য সেবায় জড়িতদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পিপিই ও হেড শেল্ড নিজেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি ও কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক এর নিকটে হস্তান্তর করেছেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের হাতে চিকিৎসকদের সুরক্ষা পিপিই তুলে দিচ্ছেন পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত

পুলিশের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষের। সেই সকল অভিযোগ ঘুচিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার সদস্যের এই বাহিনী আজ দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আজ অনেকটা পুলিশের উপরে নির্ভরশীল। পুলিশের আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গার ভিত মজবুত করতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত এর নির্দেশে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, তাতে করে এই জেলাবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে তাদের অবদান স্মরণ করছে।

ঘুরে ঘুরে ভাসমান মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন পুলিশ সুপার

পুলিশের প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সেই জায়গা থেকেও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে একজন কাজ পাগল, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বিচক্ষণ পুলিশ কর্মকর্তার প্রচেষ্টায়। যিনি প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষের এই জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারা অব্যাহত রাখাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনিই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত।
২০২০ সাল মুজিব বর্ষ হিসেবে পুলিশের স্লোগান ছিল, “মুজিববর্ষে অঙ্গিকার, পুলিশ হবে জনতার” এই শ্লোগান কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে সেটার বিশ্লেষণ এই জেলাবাসী করছে। দল-মত ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষ আজ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে। এক অকৃত্রিম, অমূল্য ভালোবাসায় এই জেলার প্রত্যেকটি মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত।

পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতের নির্দেশে অসহায়দের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান

করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব যখন টালমাটাল, বিশ্বের বাঘা বাঘা অর্থনীতির দেশ যেখানে বিপর্যস্ত অবস্থায়, সেখানে বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের পক্ষে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মোকাবেলা করাটা অত্যন্ত কঠিন। জনবল সংকট, নানা সীমাবদ্ধতার পরেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শক্ত নেতৃত্বে এসএম তানভীর আরাফাত এর মত দেশ প্রেমিক কিছু মানুষের কারনে করোনা ভাইরাসের মতো যুদ্ধে আমরা অবশ্যই বিজয়ী হবো। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন এবং ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুন।

লেখকঃ গণমাধ্যমকর্মী, কুষ্টিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − two =


আরও পড়ুন