ঘরে বাইরে নারীর যুদ্ধ: নারীদের অধিকার নিয়ে মিডিয়ার সামনে আফরোজা আক্তার ডিউ

অথর
রেজা আহাম্মেদ জয়  কু্ষ্টিয়া
প্রকাশিত :৯ মার্চ ২০১৯, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 102 বার
ঘরে বাইরে নারীর যুদ্ধ: নারীদের অধিকার নিয়ে মিডিয়ার সামনে আফরোজা আক্তার ডিউ আফরোজা আক্তার ডিউ

 

নারী দিবসে আফরোজা আক্তার ডিউ সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন মমতাময়ী মা, তিনি একজন নারী হয়ে ১৬কোটি মানুষের কথা ভেবে দেশের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার করায় নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নারীরা প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে। এমনি এক সাক্ষাৎকারে গনমাধ্যমের কর্মীদের মুখোমুখি হলেন আফরোজা আক্তার ডিউ। তিনি বলেন নিজের সাথে যুদ্ধ করি প্রতিনিয়ত। শক্তি সাহস সঞ্চয় করি আশপাশের মানুষের কাছ থেকে।

সাংবাদিক আফরোজা আক্তার ডিউ:- দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন মূলধারার সংবাদ মাধ্যমে বর্তমানে ডেইলি নিউ নেশন(ইংরেজী) পত্রিকা, দৈনিক বঙ্গজননী পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন, এদিকে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক পদ্মা গড়াই ও ডেইলি অথেনটিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অর্থনীতি বিষয়ক কুষ্টিয়ায় কোনও সংবাদমাধ্যমে এই প্রথম কোনও নারী সাংবাদিক সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে সহকারি প্রধান শিক্ষক ও কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সম্মানে ভূষিত হয়ে জয়ীতা পুরুষ্কার পেয়েছেন। আফরোজা আক্তার ডিউ মুক্তিযোদ্ধা কন্যা, তিনি দেশকে ভালোবাসতে শিখেছেন, দেশের কল্যানে কাজ করতে ব্যস্তময় জীবনে বেছে নিয়েছেন রাজনৈতিক জীবন। রাজনীতিতে এগিয়ে আছেন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগে দায়িত্বের সাথে কাজ করে সু-নাম অর্জন করেছেন। বেশ স্বাচ্ছন্দের সঙ্গেই কাজ করে যাচ্ছেন। ঘর, সংসার, সন্তান এবং অফিস এক হাতে সামলাচ্ছেন। সত ব্যস্ততার মধ্যে বাড়িতে আত্মীয় স্বজন আসলে কোন বিরক্ত বোধ মনে করেন না, অতিথি আপ্পায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই কর্মোদ্দীপক নারী এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক রেজা আহাম্মেদ জয়কে জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা। আপনার সাংবাদিকতার শুরুর গল্পটা জানতে চাই। আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, মূলত ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ছিলো, পরে সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। আমি ইংরেজী বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে নারী বিএডও করেছি। তখন আমি সংবাদমাধ্যমে নারীদের অবস্থান নিয়ে ভাবতাম, সংবাদপত্রে নারী বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন পড়তাম এমনকি লেখালেখি করতাম। সংবাদ পত্রে নারীদের বিষয়ে লেখা দেখে তখন থেকে আমার সংবাদ মাধ্যমের ব্যাপারে আগ্রহটা বাড়ে। আর ঘরের ভিতর থেকেও উৎসাহটা আসে। নারীদের অবস্থান নিয়ে আমি কিছু লেখালেখিও করি।
সংবাদ পত্রে নারীদের ফিচার দেখে গণমাধ্যম বিষয়ে কিছু প্রশিক্ষণও নিয়েছি। এভাবেই মূলত আমার সাংবাদিকতায় আসা।

সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় আজ আপনি পত্রিকার সম্পাদক, এতে আপনার প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বলবেন?

আফরোজা আক্তার ডিউ: যেকোনও বিষয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে প্রতিবন্ধকতা থাকে। তবে আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু ভিন্ন, যেহেতু পারিবারিকভাবেই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি তাই পরিবার থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের সাথে বিবাহের পর থেকে তার সহযোগীতা পেয়েছি। ঘর সামলানোর পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আমার আগ্রহ ছিলো তাই এখনো সকল কাজের পাশাপাশি সংবাদপত্রে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে নারীদের অধিকার সম্পর্কে তুলে ধরি, নারীরা ঘরে বাইরে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে। আরশীনগর ভবনে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আরশীনগর পত্রিকা প্রকাশে রাতের শিফটে সহযোগীতা করি। তবে সেখানে কাজ করার সময়ই আমি বিশেষভাবে ব্যস্ত থাকলেও সমাজের অবহেলীত নারীদের কথা তুলে ধরতে লিখতে হয়। অনেক সময় নারী সহকর্মীরা এসে আমাকে উৎসাহ দেন। পরিবারের কোন বাধা থাকে না, সকলে আমাকে আমার কাজে সহযোগীতা করেন। তবে আমি মনে করি কর্মস্থল নারীদের বিষয়ে সহযোগিতামূলক হলে মেয়েরা যে কোনো সময় যে কোনো কাজ করতে প্রস্তুত। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

সাংবাদিকতা বিভাগে অনেক মেয়ে পড়ছে। কিন্তু পড়াশোনা শেষে তারা অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?

আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, আসলে সাংবাদিকতা একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই চ্যালেঞ্জটা আছে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। রাতে অফিস করা, বাইরে যে কোনো সময় রির্পোটিংয়ের জন্য যাওয়া, যে কোনো দুর্যোগে বা দুর্ঘটনায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করা অর্থাৎ পেশাগত ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নারীদের এই পেশায় কম আসার অন্যতম কারণ। এ ছাড়াও সাংবাদিকতা পেশাটিকে প্রথমত আর্থিকভাবে নিরাপদ মনে করে না অনেকে। তাই হয়তো তারা অন্য পেশার দিকে ঝোঁকে। যদিও এই সমস্যাটা বর্তমানে কমে এসেছে। নারীরা বর্তমানে সাংবাদিকতা সহ কোন কাজে পিছিয়ে নেই।

পত্রিকায় দায়িত্ব পালন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা।সেই সঙ্গে আপনার একটা পরিবার আছে। দুটি কন্যা আছে, সব মিলিয়ে আপনি কীভাবে সামলে নেন?

আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, আসলেই এটা একটা চ্যালেঞ্জের জায়গা। সকালে ঘুম থেকে সকলের আগে উঠতে হয়, বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত করতে হয়, সকালের নাস্তা শেষে বাচ্চাদের স্কুলে রেখে আমার কর্মস্থল (কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ) অফিসে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। পত্রিকায় রিপোর্টের জন্য সংবাদ পাঠাতে হয়। তারপর দৈনিক পত্রিকা ফলো করতে হয়, পত্রিকায় কোন কোন বিষয় মিস করলাম এটা দেখা। বিকেলে নারী সহকর্মীদের সাথে মিটিং করা, নারীরা কিভাবে মাথা উচু করে চলবে সে বিষয়ে কথা বলা। এ ছাড়াও ঘরে ফিরে বাচ্চাদের দেখাশোনাসহ বাসার কাজও করতে হয়। সবমিলিয়ে একটা রুটিনের মধ্যে চলতে হয়। রুটিন ফলো করলেই আর সমস্যা হয় না। তবে নারী হিসেবে পরিশ্রম করার মানসিকতাও থাকতে হয়। সময়কে ভাগ করে নিয়ে চলতে হয়। কর্মস্থলের (অফিস) কাছাকাছি বাসা হওয়ায় অনেকটা সুবিধা হয়েছে। সময়গুলোকে সহজে ভাগ করে নিয়ে সব কাজ সহজেই করতে পারি।

আপনার সম্পাদকীয় নীতি সম্পর্কে জানতে চাই

আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, সম্পাদকীয় নীতিতে আমি দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব (বাংলাদেশ বেতার, বিজয়টিভি, দৈনিক বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)কে অনেকটা অনুসরণ করি এবং অনুপ্রেরণা মনে করি। আমার সাংবাদিকতার উত্থান তার পরিচর্যাতেই। তাই তাকেই অনুসরণ করি।

আপনার সাথে যারা পুরুষ সহকর্মীরা আছেন, তাদের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পান?

অাফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, জ্বী তারা অনেক সহযোগিতা করেন। আমার আরশীনগর ভবনে যারা আছেন, তাদের সবার সহায়তায় আমি এই অবস্থানে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি। তারা পাশে না থাকলে তো সফলতা সম্ভব হতো না।

ভবিষ্যতে সাংবাদিকতায় নারীদের কোথায় দেখতে চান?

আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, অবশ্যই ভালো একটা অবস্থানে দেখতে চাই। বর্তমানে সংবাদ মাধ্যমের বড় বড় পর্যায়ে নারীরা কাজ করছে, বর্তমানে অনেকটা কম কিন্তু একটা সময় তা বাড়বে। নারীরা ঘরে বাইরে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই নারীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থা গড়তে পারবে। সরকার নারী-পুরুষের সমান অধিকার করায় প্রতিটি কাজে নারীদের কাজ করার আগ্রহ বেড়েছে। আমি লক্ষ করে দেখেছি, কর্মজীবী নারীদের সন্তানেরা পড়াশোনায় ভালো হয়। সেই তুলনায় আমার দুই কন্যা তানহা ও ত্বাহা লেখাপড়ায় সু-নাম অর্জন করছে।

কুষ্টিয়ায় নারীদের নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আফরোজা আক্তার ডিউ বলেন, বর্তমানে নিজের সাধ্য অনুযায়ী অবহেলীত নারীদের পাশে দাড়িয়েছি। আমার ভবিষ্যৎ চিন্তা অবহেলীত নারীরা যেনো পুরুষের কাছে আবদ্ধ না থাকে, নারীরা ঘরে বাইরে কাজ করতে পারে, শতভাগ না হলেও ৮০ ভাগকরে নারী নিয়ে কাজ করতে চাই। সমাজে নারী-পুরুষ সমান অধিকারে কাজ করার সুযোগ পায়। প্রতিটি পুরুষ নারীদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করবে, একটা পুররুষকে মনে করতে হবে নারীরাও মানুষ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি নারীদের ককর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আফরোজা আক্তার ডিউ, আপনাকেউ ধন্যবাদ নারী দিবসে নারীদের সম্পর্কে তুলে ধরার জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    14
    Shares

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 8 =